| ছবি: সংগৃহীত
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে তাহসিফকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন দীপকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও তাহসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছিল। এ ঘটনার জেরে তাহসিফকে হত্যার পরিকল্পনা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত, তা জানতে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলেও জানান এই আইনজীবী। তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দীপের সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, অন্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন এবং তদন্ত ব্যাহত হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে রিমান্ডের বিরোধিতা করেন দীপের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম ও মুতাসিম বিল্লাহ। মনিরুল ইসলাম আদালতে বলেন, তাহসিফের সঙ্গে দীপের ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল এবং দুই পরিবারের মধ্যেও যোগাযোগ ছিল। তাহসিফের বাবা কখনো দীপকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করেননি বলেও দাবি করেন তিনি। আসামিপক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন, দীপ শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন। মামলাটি নিয়ে তিনি গণমাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। তাহসিফের মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের স্বার্থে আসামিপক্ষও তদন্তে সহযোগিতা করতে চায় বলে জানান। অন্য আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, দীপ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন এবং শুরু থেকেই তদন্তে সহযোগিতা করছেন। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তাহসিফ দীপের ডাকে বাসার নিচে নেমে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন। দীপ দাবি করেছিলেন, উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর তিনি তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান। তবে মধ্যরাতে ‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত টঙ্গীর ওই এলাকায় তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও তিনি স্বীকার করেন। গত বুধবার বিকেলে টঙ্গীর রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা করার পর দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় এক স্বজনকে উদ্দেশ করে দীপ বলেন, “আমি ফুললি স্ট্রং।” এ সময় তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা না করার কথাও বলেন তিনি।