| ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শাপলা চত্বরের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে প্রসিকিউশনের আবেদনের পর এ আদেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আদেশটি দেন। এর আগে বুধবার আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইমরান ভূইয়া। মামলাটি ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে অন্য মামলায় আটক আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আগামী ১৬ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়। এই মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. আব্দুর রাজ্জাক, মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাসান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তালিকায় সাবেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও অন্যান্য ব্যক্তিও রয়েছেন। ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এদিকে, শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহতদের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ‘আমরা এ পর্যন্ত নিহত ৬১ জনের একটি তালিকা পেয়েছিলাম। তার মধ্য থেকে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।’