| ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের আলামত নিষ্পত্তি ও মাদক ধ্বংস শাখার কনস্টেবল মো. রেজাউল করিমের (৪৫) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর চালানের মূল উৎস ও নেপথ্য চক্রের তথ্য উদঘাটনে তাকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের এ নির্দেশ দেওয়া হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আসামিকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সূত্রাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমন কুমার চ্যাটার্জি। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম এই আদেশ দেন। আদালতে পেশ করা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রেজাউল করিম জব্দ করা ইয়াবার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ লাভের আশায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলেন। সিএমএম কোর্টের মালখানা শাখায় কর্মরত থেকে একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়েও তিনি যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছিলেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অপরাধের সঙ্গে প্রাথমিক সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলেও এই ইয়াবার মূল সরবরাহকারী ও গন্তব্য সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য এড়িয়ে গেছেন গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ সদস্য। ফলে ইয়াবার প্রকৃত উৎস ও এর পেছনে থাকা পুরো চক্রটির রহস্য উন্মোচনে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। এর আগে গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুর থানার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের 'বিসমিল্লাহ বিরানি ঘর' নামের একটি দোকান থেকে রেজাউল করিমকে আটক করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি ঢাকা মেট্রো-দক্ষিণের একটি বিশেষ দল ওই বিরিয়ানির দোকানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে সিআইডির উপস্থিতি টের পেয়ে রেজাউল সুকৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ঘিরে ধরে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার পরনের প্যান্টের পকেটে তল্লাশি চালিয়ে ১৭৯ গ্রাম ওজনের ১ হাজার ৭৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন অভিযানকারী সদস্যরা, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। একই সাথে তার কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি ভিভো স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। ঘটনার পর সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর দিনই তাকে রিমান্ড আবেদনের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়।