| ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি অফিস আদেশ ও চিঠির মাধ্যমে প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এলজিইডি। বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বাদী হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার আসামি সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে মঙ্গলবার দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া সেতুর কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শাহ আলমের বয়স ৪৪ বছর। তিনি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বালাপাড়া এলাকার মৃত নবুর উদ্দিনের ছেলে। যেভাবে প্রকাশ্যে আসে অনিয়ম স্থানীয়দের অভিযোগ, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাই শুরু করেন। এ সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে তারা দেখতে পান। স্থানীয় বাসিন্দারা কাজটিতে বাধা দিলে ঢালাই বন্ধ হয়ে যায়। তারা মোবাইল ফোনে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার রাতেই কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয়। পরে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেলে সেতুটি পরিদর্শনে যান এলজিইডি ঢাকা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল মনজুর মুহাম্মদ ছাদেক। প্রায় ১০ কোটি টাকার সেতু নির্মাণ এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কের ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির দৈর্ঘ্য ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজটি করছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় এলজিইডি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইনগত পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে ঘটনার দায় নির্ধারণ করা হবে।